দর্শনের রূপরেখা An Outline Of Philosophy Abdul Motin -

দর্শনের রূপরেখা An Outline Of Philosophy Abdul Motin


পরিচয়

বার্ট্রান্ড রাসেল (১৮৭২–১৯৭০) ২০শ শতাব্দীর দর্শনে একটি স্তম্ভস্বরূপ ব্যক্তিত্ব ছিলেন, যিনি গণিতীয় তর্কশাস্ত্র, ভাষাদর্শন এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে ক্রান্তিকারী কাজের জন্য পরিচিত। তিনি একজন ব্রিটিশ দার্শনিক, তর্কশাস্ত্রী এবং ১৯৫০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ছিলেন। তাঁর বিশ্লেষণাত্মক দর্শনে অবদান এবং আদর্শবাদের সমালোচনা আজও দার্শনিক অধ্যয়নে প্রভাব ফেলে। তাঁর বই দর্শনের রূপরেখা, যা ১৯২৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়, দর্শনের ভূমিকা বিশ্ব বোঝার জন্য একটি মৌলিক কাজ। এর বাংলা অনুবাদ, "দর্শনের রূপরেখা" নামে, প্রফেসর ড. আব্দুল মতীন দ্বারা অনূদিত, যা বাংলা-ভাষী পাঠকদের জন্য এই ক্লাসিক গ্রন্থটিকে সহজলভ্য করে, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দর্শনানুরাগীদের জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ হিসাবে।

দর্শনের রূপরেখা এর বিষয়বস্তু

দর্শনের রূপরেখা দার্শনিক চিন্তাধারার একটি ব্যাপক অন্বেষণ, যেখানে রাসেল তর্ক করেন যে দর্শন বিশ্বের সাথে জড়িত। তিনি মানবতাকে বিশ্ব সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের একটি যন্ত্র হিসাবে দেখেন, আধুনিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে আমাদের "প্রতীয়মান" চেতনা থেকে পৃথক করে। বইটি দুটি প্রধান অংশে বিভক্ত:

  • মানুষ বাহির থেকে: এই অংশ মানব ধারণা, স্মৃতি, ভাষা এবং শিক্ষা প্রক্রিয়াগুলিকে একটি উদ্দেশ্যমূলক দৃষ্টিকোণ থেকে পরীক্ষা করে, যেখানে রাসেল মানুষ কীভাবে পরিবেশের সাথে ক্রিয়া করে এবং এটি বাস্তবতার বোঝাপড়া গড়ে তোলে, তা অন্বেষণ করেন।
  • ভৌতিক জগত: এই অংশ পরমাণুর গঠন এবং আপেক্ষিকতা যেমন বৈজ্ঞানিক ধারণাগুলিকে গভীরভাবে অন্বেষণ করে, এবং এগুলিকে দার্শনিক অনুসন্ধানের সাথে একীভূত করে বিশ্বের প্রকৃতি সম্পর্কে প্রশ্নের সমাধান খোঁজে।

রাসেলের দৃষ্টিভঙ্গি তার স্পষ্টতা এবং সহজলভ্যতার জন্য উল্লেখযোগ্য, যা জটিল দার্শনিক এবং বৈজ্ঞানিক ধারণাগুলিকে বিস্তৃত পাঠকসমাজের জন্য বোধগম্য করে তোলে। বইটির নবাবধারা দৃষ্টিভঙ্গি দর্শনের অর্থ, প্রাসঙ্গিকতা এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য আলোচনা সৃষ্টি করেছে, যা আজও দার্শনিক অধ্যয়নে প্রভাব ফেলে।

মূল থিমস

বইয়ের মূল থিমস অন্তর্ভুক্ত:

  • ধারণা এবং চেতনা: রাসেল আমাদের ইন্দ্রিয় অভিজ্ঞতা কীভাবে বিশ্বের বোঝাপড়া গড়ে তোলে, তা পরীক্ষা করেন, এবং সাধারণ জ্ঞানের "সহজ" ধারণার বিশ্বস্ততা প্রশ্নবিদ্ধ করেন, যেমন টেবিল, চেয়ার বা গাছের মতো বস্তুগুলিকে দেখার বিষয়ে।
  • বিজ্ঞান এবং দর্শন: তিনি আধুনিক বৈজ্ঞানিক উন্নতি যেমন পরমাণু তত্ত্ব এবং আপেক্ষিকতাকে দার্শনিক প্রশ্নের সাথে মেলাতে চেষ্টা করেন, যেমন অস্তিত্ব এবং জ্ঞান সম্পর্কে।
  • মানবতার ভূমিকা: রাসেল জোর দিয়েছেন যে মানুষ বিশ্ব সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের জন্য একটি সরঞ্জাম, যা দার্শনিক চিন্তায় মানবকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে চ্যালেঞ্জ করে।

বাংলা অনুবাদের বিস্তারিত

বাংলা সংস্করণ, "দর্শনের রূপরেখা" নামে, প্রফেসর ড. আব্দুল মতীন দ্বারা অনূদিত, যা ১৯৭৭ সালে সম্পন্ন হয়েছিল। এই অনুবাদটি 437 পৃষ্ঠার এবং 28 MB আকারের PDF ফরম্যাটে উপলব্ধ। প্রফেসর মতীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের একজন সম্মানিত অধ্যাপক, যা অনুবাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করে। এটি রাসেলের জটিল ধারণাগুলিকে সঠিকভাবে বাংলায় প্রকাশ করে, যা ছাত্র, গবেষক এবং সাধারণ পাঠকদের জন্য সহজলভ্য করে তোলে। এটি ভারতীয় দর্শনের সাথে সম্পর্কিত "/ভারতীয় দর্শন bhartiyadarsan" ফোল্ডারে সংরক্ষিত, যা পাশ্চাত্য এবং ভারতীয় দার্শনিক ঐতিহ্যের তুলনামূলক অধ্যয়নের জন্য এর ব্যবহার নির্দেশ করে।

ভারতীয় দর্শনের সাথে প্রাসঙ্গিকতা

যদিও দর্শনের রূপরেখা পাশ্চাত্য দার্শনিক ঐতিহ্যে মূলভূতভাবে নির্মিত, তবু এটি ভারতীয় দর্শনে নিবেদিত একটি ফোল্ডারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এর ক্রস-সাংস্কৃতিক সংলাপের সম্ভাবনা নির্দেশ করে। ভারতীয় দর্শন বিভিন্ন স্কুল নিয়ে গঠিত, যেমন:

  • বেদান্ত: বাস্তবতা এবং আত্মার প্রকৃতি নিয়ে ফোকাস করে, যেমন ব্রহ্ম (সার্বজনীন চেতনা) এবং আত্মা (ব্যক্তিগত আত্মা)।
  • ন্যায়: যুক্তি এবং জ্ঞানতত্ত্বে জোর দেয়, বোঝে কীভাবে জ্ঞান অর্জন করা হয় এবং যাচাই করা হয়।
  • বৌদ্ধধর্ম: দুঃখ, চেতনা এবং নির্বাণের প্রকৃতি নিয়ে অন্বেষণ করে।

রাসেলের ধারণা, জ্ঞান এবং বিশ্বের প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা এই ভারতীয় দার্শনিক ঐতিহ্যের সাথে মিলে যায়, বিশেষ করে বাস্তবতা এবং মানব চেতনা বোঝার তাদের শেয়ার্ড আগ্রহে। যদিও অনুবাদটি নিজেই ভারতীয় দর্শনের সাথে সরাসরি সংযোগ নিয়ে যোগ করে না, তবু এর বাংলা সংস্করণ গবেষক এবং ছাত্রদের জন্য একটি মূল্যবান টুল, যারা পাশ্চাত্য এবং ভারতীয় দর্শনের মধ্যে তুলনামূলক অধ্যয়ন অন্বেষণ করছে। উদাহরণস্বরূপ, রাসেলের ধারণার বিশ্লেষণকে ন্যায়ের প্রত্যক্ষ (ধারণা) এর তত্ত্বের সাথে তুলনা করা যেতে পারে, যা বৈধ জ্ঞানের একটি উৎস হিসাবে, যা উভয় ঐতিহ্যের গভীরতর বোঝাপড়ার জন্য অবদান রাখে।

উপলব্ধতা এবং সহজলভ্যতা

অনুবাদিত বইটি বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ফ্রি ডাউনলোডের জন্য উপলব্ধ, যেমন:

এই প্ল্যাটফর্মগুলি বাংলা-ভাষী দর্শকদের মধ্যে এই দার্শনিক টেক্সট অ্যাক্সেস করার জন্য সুবিধাজনক করে তোলে।

সংক্ষেপে

"দর্শনের রূপরেখা" বাংলা দার্শনিক সাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান, বার্ট্রান্ড রাসেলের দর্শনের রূপরেখা এর একটি নতুন দর্শকদের কাছে নিয়ে আসে। প্রফেসর ড. আব্দুল মতীন দ্বারা অনূদিত, এই 437-পৃষ্ঠার কাজটি জটিল দার্শনিক ধারণাগুলিকে বাংলা-ভাষী পাঠকদের জন্য সহজলভ্য করে তোলে, বিশেষ করে পাশ্চাত্য এবং ভারতীয় দার্শনিক ঐতিহ্যের মিলনস্থলে আগ্রহীদের। ভারতীয় দর্শনে নিবেদিত একটি ফোল্ডারে এর অবস্থান এর কম্পারেটিভ স্টাডিজের সম্ভাবনা হিসাবে এর সম্ভাবনাকে উজ্জ্বল করে, বিভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের মধ্যে সংলাপকে উৎসাহিত করে। আপনি যে কোনো ছাত্র, গবেষক বা শুধুমাত্র কৌতূহলী পাঠক হোন না কেন, এই অনুবাদটি রাসেলের সময়হীন বিশ্ব এবং মানবতার ভূমিকার অন্বেষণে অংশগ্রহণের একটি অনন্য সুযোগ প্রদান করে।

উদ্ধৃতিসমূহ:

সংক্ষিপ্ত তথ্য সারণী

নিচে বই এবং অনুবাদের মূল তথ্য দেওয়া হলো:

তথ্যবিবরণ
বইয়ের শিরোনামদর্শনের রূপরেখা (An Outline of Philosophy)
মূল লেখকবার্ট্রান্ড রাসেল
অনুবাদকপ্রফেসর ড. আব্দুল মতীন
পৃষ্ঠার সংখ্যা437
ফরম্যাটPDF
ফাইল আকার28 MB
মূল প্রকাশনার বছর1927 AD
অনুবাদ সম্পন্নের বছর1977
অনুবাদকের সংস্থাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, দর্শন বিভাগ
প্রাসঙ্গিকতাভারতীয় দর্শনের সাথে তুলনামূলক অধ্যয়নের জন্য উপযোগী






একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

نموذج الاتصال