বৈশেষিক পদার্থতত্ত্ব: প্রাচীন ভারতীয় বিশ্বতত্ত্ব, মোক্ষ ও মহর্ষি কণাদের দর্শন

 

বৈশেষিক পদার্থতত্ত্ব: প্রাচীন ভারতীয় বিশ্বতত্ত্বের এক গভীর অনুসন্ধান

বৈশেষিক পদার্থতত্ত্ব: প্রাচীন ভারতীয় বিশ্বতত্ত্বের এক গভীর অনুসন্ধান

Description: বৈশেষিক দর্শন, এর সপ্তপদার্থ, মহর্ষি কণাদের অবদান এবং ন্যায় দর্শনের সাথে এর সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত জানুন। ভারতীয় আস্তিক দর্শনে বিশ্বতত্ত্বের এই গুরুত্বপূর্ণ ধারা আপনার জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করবে।

Keywords: বৈশেষিক দর্শন, পদার্থতত্ত্ব, বিশ্বতত্ত্ব, মহর্ষি কণাদ, সপ্তপদার্থ, দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সামান্য, বিশেষ, সমবায়, অভাব, মোক্ষ, ন্যায় দর্শন, ভারতীয় দর্শন, আস্তিক দর্শন, কণাদসূত্র, প্রশস্তপাদ, উদয়ন, রাহুল সাংকৃত্যায়ন, পরমাণুবাদ।

১.০ ভূমিকা: ভারতীয় দর্শনে বৈশেষিকের গুরুত্ব

ভারতীয় আস্তিক ষড়দর্শনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হলো বৈশেষিক দর্শন। এই দর্শনের মূল ভিত্তি হলো ‘পদার্থতত্ত্ব’ বা ‘বিশ্বতত্ত্ব’, যা প্রাচীনকালে প্রতিটি জ্ঞানপিপাসু ছাত্রের জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত হতো। বৈশেষিক দর্শনের প্রধান আলোচনা হলো এই বিশ্বজগতের মৌলিক উপাদান এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে। ন্যায় সম্প্রদায়ের মতোই বৈশেষিক সম্প্রদায়ও মোক্ষকেই পরমপুরুষার্থ বা জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করে। তবে, ন্যায় দর্শনে যেখানে ষোড়শ পদার্থের তত্ত্বজ্ঞানকে মোক্ষের হেতু রূপে দেখা হয়, সেখানে বৈশেষিক দর্শনে দ্রব্যাদি সপ্তপদার্থের সাধর্ম্য (সাদৃশ্য) ও বৈধর্ম্য (বৈসাদৃশ্য) হেতুক তত্ত্বজ্ঞানকেই মোক্ষের পথপ্রদর্শক হিসেবে ধরা হয়।

মহর্ষি কণাদ-এর ‘বৈশেষিকসূত্র’ হলো বৈশেষিক দর্শন সম্প্রদায়ের মূল ও আদিগ্রন্থ। এই দর্শন মূলত ‘বিশেষ’ পদার্থের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করার কারণে ‘বৈশেষিক দর্শন’ নামে সুপরিচিতি লাভ করেছে। তবে, এর পাশাপাশি এটি ‘কণাদদর্শন’, ‘ঔলূক্যদর্শন’, ‘কাশ্যপীয় দর্শন’ প্রভৃতি বিভিন্ন নামেও পরিচিত। এই নামগুলির পেছনে রয়েছে নানা ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক কাহিনী, যা এই দর্শনের গভীরতা ও প্রাচীনত্বকে তুলে ধরে।

২.০ উৎপত্তি ও নামকরণ: মহর্ষি কণাদের বিবিধ পরিচয়

মহর্ষি কণাদ ছিলেন বৈশেষিক দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিলেন, যেমন— ‘কণভূক’, ‘কণভক্ষ’, ‘যোগী’, ‘উলূক’, ‘কাশ্যপ’। এই নামগুলির পেছনে রয়েছে তার জীবনযাপন ও কিংবদন্তি।

একটি প্রবাদ অনুসারে, মহর্ষি কণাদ দিনের বেলায় গভীর অরণ্যে ধ্যানে মগ্ন থাকতেন এবং রাত্রিকালে, যখন সবাই নিদ্রিত, তখন তিনি আহারের সন্ধানে বের হতেন। তার এই জীবনযাত্রা উলূক বা পেচকের বৃত্তির (আচরণের) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল, তাই তাকে উলূক নামে অভিহিত করা হতো। মহাভারতের শান্তিপর্বের একাদশ অধ্যায়েও এর একটি পরোক্ষ উল্লেখ পাওয়া যায়: ‘উলূকঃ পরমো বিপ্রো মার্কণ্ডেয় মহামুনিঃ’

অন্য একটি কিংবদন্তি অনুসারে, কণাদ কঠোর যোগাভ্যাসের মাধ্যমে ভগবান শিবের অনুগ্রহ লাভ করেন। শিব কণাদের তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে উলূকের রূপ ধারণ করে তার সামনে আবির্ভূত হন এবং তাকে ষটপদার্থের উপদেশ দান করেন। বায়ুপুরাণেও উল্লেখ আছে যে কণাদ ছিলেন পরম শৈব।

‘কণাদ’ নামের উৎপত্তি প্রসঙ্গে ন্যায়-কন্দলীতে উল্লেখ আছে যে, তিনি মাঠে পড়ে থাকা শস্যকণা ভক্ষণ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, অর্থাৎ একপ্রকার ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বন করতেন। এই কারণে তাকে কণাদ বলা হতো, এবং এ কারণেই তাকে কণভূক বা কণভক্ষ নামেও ডাকা হতো। আবার, কণাদ কাশ্যপ গোত্রীয় ছিলেন বলে তার দর্শনকে কাশ্যপীয় দর্শনও বলা হয়। এই বিবিধ নামগুলি বৈশেষিক সূত্রকারের বিভিন্ন পরিচয় এবং এই সম্প্রদায়ের বিবর্তনকে নির্দেশ করে। তবে, সাধারণভাবে এই দর্শন ‘বৈশেষিক দর্শন’ নামেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত।

এ প্রসঙ্গে পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ণের 'দর্শন-দিগদর্শন' গ্রন্থে কণাদ সম্পর্কে একটি কৌতূহলোদ্দীপক মন্তব্য পাওয়া যায়:

“বৈশেষিকের আর একটি নাম উলূক্য দর্শন। বৈশেষিকের স্রষ্টার সঙ্গে উলূক পক্ষীর (পেচক) বা নিশাচর প্রাণীর যে কি সম্বন্ধ ছিলো তা বলা যায় না। কণাদ যদি শুধু সরস্বতী নয় লক্ষ্মীরও কৃপাধন্য হতে পারতেন তবে না হয় তাঁর নাম উলূক হতে পারত। উলূক এমন কিছু সুশ্রী বা উত্তম জাতীয় পক্ষী নয় যে মা বাবা স্নেহবশত কণাদের এমন নাম রাখবেন। পেচক এথেন্সের একটি পবিত্র চিহ্ন। তবে কি গ্রীকদর্শনের সঙ্গে এই দর্শনের যে ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ ছিল তারই ফলস্বরূপ এই নামের সূচনা হয়েছে ?” (দর্শন-দিগদর্শন)

রাহুল সাংকৃত্যায়ণের এই মন্তব্যটি বৈশেষিক দর্শনের নামকরণের পেছনে সম্ভাব্য গ্রিক প্রভাব নিয়ে একটি প্রশ্ন উত্থাপন করে, যা এই দর্শনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে আরও জটিল করে তোলে।

৩.০ বৈশেষিক সূত্রের রচনাকাল: বিতর্ক ও বিশ্লেষণ

মহর্ষি কণাদের বৈশেষিকসূত্র গ্রন্থের রচনাকাল সঠিকভাবে নির্ণয় করা অত্যন্ত কঠিন। যদিও এই গ্রন্থকে সাধারণত বৌদ্ধ দর্শনের পূর্ববর্তী বলে স্বীকার করা হয়, তবে এ নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। একটি জনশ্রুতি অনুসারে, বুদ্ধের জন্মের (৫৬৩ খ্রিস্টপূর্ব) প্রায় আটশ বছর পূর্বে বৈশেষিকসূত্র রচিত হয়েছিল। তবে, বৈশেষিকসূত্র যে ন্যায়সূত্র থেকে প্রাচীন, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

তবে, কিছু পণ্ডিত (যেমন পণ্ডিত শ্রী শ্যামপদ মিশ্র তার প্রশস্তপাদভাষ্যের ভূমিকায়) কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই বৈশেষিকসূত্রের রচনাকাল ৩০০০ খ্রিস্টপূর্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর সাথে পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ণের বক্তব্যের ব্যাপক ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। তিনি তার 'দর্শন-দিগদর্শন' গ্রন্থে পরমাণুবাদী দার্শনিক কণাদের সময়কাল ১৫০ খ্রিস্টাব্দ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ প্রসঙ্গে রাহুল সাংকৃত্যায়ণের অভিমত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:

“কণাদের বৈশেষিক দর্শনকে বুদ্ধের পূর্বযুগের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা পণ্ডশ্রম কারণ কণাদের দর্শন যদি আগেই সৃষ্টি হতো তবে বুদ্ধ তথা অন্যান্য সমকালীন দার্শনিকগণকে ত্রিপিটক এবং অন্যান্য জৈনাগমের ভাষা-পরিভাষা দ্বারা নিজেদের দর্শন আরম্ভ করার প্রয়োজন হতো না। তাঁরা কণাদের দর্শন থেকে নিজেদের প্রভাবমুক্ত রাখতে পারতেন না। কতিপয় বিদ্বান ব্যক্তি বৈশেষিককে বুদ্ধের আগের যুগে নিয়ে যেতে চেয়েছেন, এই বলে যে, কণাদের দর্শনের ওপর বৌদ্ধদর্শনের কোনো প্রভাব নেই। এর উত্তরে আমি আগেই বলেছি যে (১) বুদ্ধের দর্শনের ওপর কণাদের দর্শনের গন্ধ পর্যন্ত নেই; (২) কণাদের দর্শন বুদ্ধের দর্শন থেকে অপ্রভাবিত নয়। কার আঘাতের প্রত্যুত্তর হিসেবে আত্মা এবং নিত্যতার সিদ্ধির ওপর এত জোর দেওয়া হয়েছিলো? এটা নিশ্চিতই যে বুদ্ধের ‘অনিত্য’ এবং ‘অনাত্মা’-র বিরুদ্ধেই কণাদের দর্শন যেন জেহাদ ঘোষণা করেছিল। গ্রীক দর্শনেও হেরাক্লিটাসের অনিত্যতাবাদের উত্তরে নিত্য-সামান্যের কল্পনা করা হয়েছিল। কণাদ এবং তাঁর ভক্তগণের শতাব্দী জুড়ে সেই সামান্যকেই নিত্যতার নমুনার ধারায় উপস্থিত করা বৌদ্ধের অনিত্য (=ক্ষণিক)-বাদেরই উত্তর, অতএব বৈশেষিক যে বৌদ্ধধর্মের সঙ্গে পরিচিত নয় এ কথা সর্বৈব মিথ্যা।” (দর্শন-দিগদর্শন: পৃষ্ঠা-১২৭)

রাহুল সাংকৃত্যায়ণের এই যুক্তিগুলি বৈশেষিক দর্শনের বুদ্ধ-পরবর্তী উৎপত্তির দিকে ইঙ্গিত করে এবং বৌদ্ধ দর্শনের 'অনিত্য' ও 'অনাত্মা' ধারণার বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবে বৈশেষিকের 'নিত্য' ও 'আত্মা' ধারণার উপর জোর দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে।

৪.০ গ্রিক দর্শনের প্রভাব: এক বিতর্কিত সংযোগ

বৈশেষিক দর্শন যে প্রকৃতই বুদ্ধপরবর্তী এবং তা যে পূর্ববর্তী গ্রিক দর্শন কর্তৃক বিপুলভাবে প্রভাবিত, তা প্রমাণের নিমিত্তে রাহুল সাংকৃত্যায়ণের আরও কিছু অভিমত স্মর্তব্য:

“...ডিমোক্রিটাসের (৪৬০-৩৭০ খৃঃ.পূঃ.) জন্ম বুদ্ধের নির্বাণের (৪৮৩ খৃঃ.পূঃ.) ২৩ বছর পূর্বে হয়েছিল। সেটা ছিল এমন এক সময় যখন কিছু পুরাণ-উপনিষদ এবং বুদ্ধ-মহাবীর প্রভৃতি তীর্থঙ্করের উপদেশের ওপরেই আমাদের দর্শন নির্ভরশীল ছিল। শত অনুসন্ধান করলেও এর মধ্যে আমরা- “পরমাণুই জগতের মূলতত্ত্ব”- এর গন্ধ পর্যন্ত পাই না। ডিমোক্রিটাস যে সময়ে অবিভাজ্য, অবেধ্য, ‘অতোমোন’-এর সিদ্ধান্ত আবিষ্কার করেছিলেন, সে সময়ে ভারতে এ সম্পর্কে আবছা ধারণাও ছিল না। ডিমোক্রিটাস পরমাণুকেই সবচেয়ে সূক্ষ্ম সত্তা বলে মেনেছেন এবং তারও যে একটা পরিমাণ আছে তা অস্বীকার করেননি। কণাদও মনে করেছেন যে পরমাণু সূক্ষ্ম পরিমাণ-যুক্ত এবং উভয়েরই মতে পরমাণুই সৃষ্টি ইষ্টক স্বরূপ।”

সাংকৃত্যায়ন আরও উল্লেখ করেন:

“...পিথাগোরাস বলেছেন যে আকৃতিই মূল উপাদান, কারণ ভিন্ন ভিন্ন গরুর মৃত্যু হলেও গরু তার গো-আকৃতি নিয়েই জন্মাবে। প্লেটো আরও একটু অগ্রসর হয়ে পূর্বাপর আকৃতির মধ্যে যে সমানতা দেখা যায় তার ওপর অর্থাৎ সামান্যের ওপর জোর দিয়েছেন; তাঁর ধারণা বিশেষ মূল উপাদান (=ভাব)-এর মধ্যে বিক্ষিপ্ত হয়ে আছে। এই সামান্য-বিশেষের ধারণার কোনো আভাসই ভারতের সঙ্গে গ্রীসদের ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ স্থাপিত হওয়ার আগে ভারতীয় সাহিত্যে ছিল না।”

এবং সবশেষে:

“কণাদ তাঁর দর্শনে দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সামান্য, বিশেষ ও সমবায় এই ছ’ভাগের পদার্থে বিশ্বের উপাদানকে ভাগ করেছেন। প্লেটোর শিষ্য অ্যারিস্টটল তাঁর তর্কশাস্ত্রে আট ও দশটি পদার্থকে মেনেছেন : দ্রব্য, গুণ পরিমাণ, সম্বন্ধ, দিশা, কাল, আসন, স্থিতি, কর্ম, পরিমাণ। দ্রব্য, গুণ, কর্ম এবং সমবায় উভয়ের মতেই সমান। দিশা ও কালকে কণাদ দ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং পরিমাণকে গুণের। অতএব আমরা বলতে পারি যে কণাদ অ্যারিস্টটলের পদার্থকেই পুনরায় বর্গীকরণ করেছেন। এই সঙ্গে যুগের কথা ধরলে অর্থাৎ গ্রীসের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ তথা আদান-প্রদানকে দেখে সহজেই বোঝা যায় যে, এই সাদৃশ্য আকস্মিক নয়।” (দর্শন-দিগদর্শন: পৃষ্ঠা-১২৭)

তবে, এই অনুমানগুলি সর্বজনীনভাবে গৃহীত নয়। এ প্রসঙ্গে দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের মতটিও উল্লেখযোগ্য:

“...এ-অনুমান স্বীকারযোগ্য না হতেও পারে। কেননা, দুটি দেশে পরস্পরনিরপেক্ষভাবে পরমাণুবাদের আবির্ভাব অসম্ভব নয়। তাছাড়া, বৈশেষিকদের দার্শনিক মতবাদের নানা বৈশিষ্ট্যও বর্তমান; তাকে কেবলমাত্র গ্রীস থেকে আমদানি করা পরমাণুবাদ মনে করলে অতিসারল্যের আশঙ্কাও থাকে। তৃতীয়ত, উলূক নামটি কোনো প্রাচীন গোত্রের পরিচায়কও হতে পারে; কেননা প্রাচীন ভারতে পশু-পক্ষীর নাম থেকে গোত্রনামের উদ্ভব মোটেই বিরল নয়।” (ভারতীয় দর্শন: পৃষ্ঠা-১৭)

এই বিতর্কগুলি বৈশেষিক দর্শনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে এবং এর মৌলিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে।

৫.০ প্রধান গ্রন্থাবলী ও টীকা: বৈশেষিক সাহিত্যের ধারা

বৈশেষিক সম্প্রদায়ের নিজস্ব ও স্বতন্ত্র গ্রন্থাবলী খুব বেশি নয়। ভারতীয় দর্শন সাহিত্যে প্রাচীনতম সূত্রর অন্যতম নিদর্শন হিসেবে মহর্ষি কণাদের ‘বৈশেষিক সূত্র’কে স্বীকার করা হয়। এই গ্রন্থের প্রকৃত কোনো ভাষ্যগ্রন্থ পাওয়া যায় না। লঙ্কেশ্বর রাবণ এই দর্শনের প্রাচীন ভাষ্যকার হিসেবে বেদান্ত গ্রন্থে উল্লিখিত আছেন। আচার্য শঙ্কর এই ভাষ্যকে রাবণভাষ্য বলে উল্লেখ করেছেন এবং বেদান্তদর্শনে বৈশেষিকমতখণ্ডন প্রসঙ্গে শঙ্করাচার্য রাবণভাষ্যের মতের খণ্ডন করেছেন বলে জানা যায়।

অনেকের মতে, আচার্য প্রশস্তপাদ (২০০ খ্রিঃ)-এর ‘পদার্থধর্মসংগ্রহ’ বৈশেষিক-দর্শনের সঠিক ভাষ্য না হলেও, এটি ভাষ্যস্থানীয় এবং তা প্রশস্তপাদভাষ্য নামে পরিচিত। মূলত পদার্থধর্মসংগ্রহে সূত্রের ব্যাখ্যা সরাসরি না থাকলেও, সূত্রের তাৎপর্য সংক্ষেপে ও যোগ্যতার সাথে সংগৃহীত হয়েছে। এটিই বর্তমানে প্রাপ্ত গ্রন্থাবলীর মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন গ্রন্থ।

পদার্থধর্মসংগ্রহের উপর উল্লেখযোগ্য টীকাগ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে উদয়নাচার্যের (১০০০-১১০০ খ্রিঃ) ‘কিরণাবলী’ এবং শ্রীধরাচার্যের (৯৯১ খ্রিঃ) ‘ন্যায়কন্দলী’। এছাড়া বল্লভাচার্যের (১১০০-১১৫০ খ্রিঃ) ‘ন্যায়লীলাবতী’, চন্দ্রানন্দের ‘বৃত্তি’, শঙ্কর মিশ্রের (১৪৬২ খ্রিঃ) ‘বৈশেষিকসূত্রোপস্কার’ প্রভৃতি বৈশেষিক দর্শনের উল্লেখযোগ্য স্বতন্ত্র গ্রন্থ।

৬.০ ন্যায় দর্শনের সাথে সম্পর্ক: সমানতন্ত্র দর্শন

বৈশেষিক সম্প্রদায়ের নিজস্ব ও স্বতন্ত্র গ্রন্থাবলী খুব বেশি না হলেও, ভারতীয় দর্শনে বৈশেষিক-মতের আলোচনা সুবিশাল। এর প্রধান কারণ হলো বৈশেষিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ন্যায় সম্প্রদায়ের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দার্শনিক তত্ত্বের দিক থেকে উভয়েরই প্রতিপাদ্য বিষয় অভিন্ন বা প্রায়-অভিন্ন। এজন্যেই ন্যায় ও বৈশেষিক দর্শনকে সমানতন্ত্র দর্শন বলা হয়। ফলস্বরূপ, বহু গ্রন্থেই ন্যায় ও বৈশেষিক দর্শনের তত্ত্বসমূহ একই সঙ্গে আলোচিত হয়েছে।

প্রাচীন ন্যায় ও বৈশেষিক দর্শন স্বতন্ত্রভাবে আলোচিত হলেও, আচার্য উদয়নের কাল থেকেই উভয় দর্শনের তত্ত্বসমূহ একই সঙ্গে ন্যায়-বৈশেষিক হিসেবে আলোচিত হতে দেখা যায়। এভাবে পরবর্তীকালে ন্যায়-বৈশেষিক দর্শন চর্চায় শিবাদিত্যের (১১৫০-১২০০ খ্রিঃ) ‘সপ্তপদার্থী’, লৌগাক্ষি ভাস্করের ‘তর্ককৌমুদী’, রঘুনাথ শিরোমণির (১৫০০-১৫৫০ খ্রিঃ) দীধিতি বা ‘পদার্থতত্ত্বনিরূপণ’, বিশ্বনাথ ন্যায় পঞ্চাননের (১৬০০-১৬৫০ খ্রিঃ) মুক্তাবলী টীকা সহ ‘ভাষাপরিচ্ছেদ’ এবং অন্নংভট্টের (১৫৫০-১৬০০ খ্রিঃ) ‘তর্কসংগ্রহ’ প্রভৃতি গ্রন্থে বৈশেষিকসম্মত মত এবং ন্যায়সম্মত মতের পার্থক্য প্রাসঙ্গিক স্থলে উল্লেখ করা হলেও, যে সকল বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে, সে সকল ক্ষেত্রে যে কোনো একটি মতেরই উল্লেখ আছে।

ন্যায় ও বৈশেষিক এই দুই সমানতন্ত্র দর্শনে প্রধান প্রধান বিষয়ে উভয় সম্প্রদায় একমত হলেও, কিছু অপ্রধান বিষয়ে অবশ্য উভয় সম্প্রদায়ের মতপার্থক্য লক্ষ্য করা যায়:

  • প্রমাণ: ন্যায়শাস্ত্র প্রধানত প্রমাণশাস্ত্র এবং তারা প্রমাণ চতুষ্টয়বাদী (প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান, শব্দ)। কিন্তু বৈশেষিক দর্শনের মুখ্য আলোচ্য বিষয় প্রমেয় বা পদার্থ। বৈশেষিক দর্শন মুখ্যত প্রমেয়শাস্ত্র বা পদার্থশাস্ত্র। নৈয়ায়িকদের স্বীকৃত চারটি প্রমাণের মধ্যে বৈশেষিকেরা প্রত্যক্ষ ও অনুমান এই দুটি প্রমাণ স্বীকার করেছেন। উপমান ও শব্দ প্রমাণকে বৈশেষিকেরা প্রত্যক্ষ ও অনুমানের অন্তর্গত করেছেন।

  • পরিভাষাগত ভিন্নতা: উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছু পরিভাষাগত ভিন্নতাও লক্ষ্য করা যায়। বৈশেষিক সম্প্রদায় যাকে ‘সামান্য’ বলেছেন, ন্যায় সম্প্রদায় তাকে প্রধানত ‘জাতি’ বলেছেন। আবার ন্যায় সূত্রোক্ত অনুমানের অবয়ব হিসেবে প্রতিজ্ঞা, হেতু, উদাহরণ, উপনয় ও নিগমনকে পদার্থধর্মসংগ্রহে প্রতিজ্ঞা, অপদেশ, নিদর্শন, অনুসন্ধান ও প্রত্যাস্নায় নামে কথিত হয়েছে।

  • অনুমানের প্রকারভেদ: ন্যায়দর্শনে পূর্ববৎ, শেষবৎ ও সামান্যতোদৃষ্ট এই ত্রিবিধ অনুমানের উল্লেখ আছে। কিন্তু বৈশেষিক দর্শনে দৃষ্ট ও সামান্যতোদৃষ্ট এই দ্বিবিধ অনুমানের উল্লেখ আছে।

  • হেত্বাভাসের প্রকারভেদ: ন্যায় দর্শনে সব্যভিচার (অনৈকান্তিক), বিরুদ্ধ, প্রকরণসম (সৎপ্রতিপক্ষ), সাধ্যসম (অসিদ্ধ) ও কালাতীত (বাধিত) এই পাঁচপ্রকার হেত্বাভাস উল্লিখিত হয়েছে। কিন্তু বৈশেষিক দর্শনে অসিদ্ধ, বিরুদ্ধ ও সন্দিগ্ধ এই তিনপ্রকার হেত্বাভাসের উল্লেখ পাওয়া যায়।

  • পদার্থের সংখ্যা: ন্যায়দর্শনে ষোড়শ পদার্থের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু বৈশেষিক দর্শনে সপ্ত পদার্থের কথা বলা হয়েছে। তবে এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। পদার্থ বিষয়ে উভয় সম্প্রদায়ের সংখ্যার পার্থক্য দুটি ভিন্ন বিন্যাস-প্রক্রিয়ার পার্থক্য মাত্র। বস্তুত সামগ্রিকভাবে জগতের পদার্থ বিষয়ে উভয় মতের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ন্যায় দর্শনে ষোড়শ পদার্থের মাধ্যমে যে সকল তত্ত্বের কথা বলা হয়েছে, বৈশেষিক দর্শনে তা সপ্তপদার্থের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

  • সমবায়ের জ্ঞান: ন্যায়মতে সমবায় প্রত্যক্ষসিদ্ধ। কিন্তু বৈশেষিক মতে সমবায় প্রত্যক্ষের দ্বারা জ্ঞাত হতে পারে না, অনুমানের দ্বারা সমবায়ের অস্তিত্ব সিদ্ধ হয়।

মূলত, ন্যায়সম্মত কোনো মূলতত্ত্বই বৈশেষিকগণ কিংবা বৈশেষিকসম্মত কোনো মূলতত্ত্বই নৈয়ায়িকগণ অস্বীকার করেননি। তাদের পার্থক্যগুলি প্রধানত বিন্যাস, পরিভাষা এবং প্রমাণের সংখ্যা নিয়ে, মৌলিক দার্শনিক অবস্থানে নয়।

৭.০ উপসংহার: বৈশেষিক দর্শনের চিরন্তন প্রাসঙ্গিকতা

বৈশেষিক দর্শন ভারতীয় চিন্তাধারায় এক অসাধারণ সংযোজন। এর সপ্তপদার্থের সুসংবদ্ধ শ্রেণীকরণ বিশ্বজগতের প্রতিটি উপাদানকে বিশ্লেষণ করার একটি শক্তিশালী কাঠামো প্রদান করে। মহর্ষি কণাদের দূরদর্শী চিন্তা এবং পরবর্তী আচার্যদের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ এই দর্শনকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। যদিও এর রচনাকাল এবং গ্রিক দর্শনের সাথে এর সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবুও বৈশেষিক দর্শনের পরমাণুবাদ, কার্যকারণ তত্ত্ব এবং পদার্থের সুনির্দিষ্ট বিশ্লেষণ প্রাচীন ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তির ভিত্তি গঠনে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করেছে।

ন্যায় দর্শনের সাথে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এটিকে ভারতীয় দর্শনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তুলেছে, যেখানে উভয়ই জ্ঞান ও মুক্তির পথ অন্বেষণে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করেছে। বৈশেষিক পদার্থতত্ত্বের এই গভীর জ্ঞান কেবল দার্শনিকদের জন্যই নয়, বরং আধুনিক বিজ্ঞান ও বিশ্বতত্ত্ব নিয়ে আগ্রহী সকলের জন্যই এক অফুরন্ত অনুপ্রেরণার উৎস। এই দর্শন আমাদের চারপাশে বিদ্যমান জগতের মৌলিক সত্যগুলিকে উপলব্ধি করতে এবং জীবনের পরম লক্ষ্য মোক্ষ অর্জনের পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। বৈশেষিক দর্শনের এই চিরন্তন প্রাসঙ্গিকতা আজও গবেষণার বিষয় এবং এটি ভারতীয় জ্ঞান ঐতিহ্যের এক অমূল্য রত্ন।

বৈশেষিক পদার্থতত্ত্ব: সবসমই  জিজ্ঞাস্য (২০টি প্রশ্ন)

বৈশেষিক দর্শন এবং এর পদার্থতত্ত্ব নিয়ে আপনার মনে অনেক প্রশ্ন থাকতে পারে। এখানে 'বৈশেষিক পদার্থতত্ত্ব: প্রাচীন ভারতীয় বিশ্বতত্ত্বের এক গভীর অনুসন্ধান' ব্লগপোস্টের উপর ভিত্তি করে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত ২০টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো, যা এই জটিল ধারণাকে সহজভাবে বুঝতে সাহায্য করবে:

১. বৈশেষিক দর্শন ভারতীয় দর্শনের কোন ধারার অন্তর্গত?

বৈশেষিক দর্শন ভারতীয় আস্তিক ষড়দর্শনের অন্যতম একটি ধারা।

২. বৈশেষিক দর্শনের মূল ভিত্তি বা প্রধান আলোচনা কী?

বৈশেষিক দর্শনের মূল ভিত্তি হলো 'পদার্থতত্ত্ব' বা 'বিশ্বতত্ত্ব', অর্থাৎ বিশ্বজগতের মৌলিক উপাদান এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা।

৩. বৈশেষিক মতে পরমপুরুষার্থ কী?

ন্যায় সম্প্রদায়ের মতোই বৈশেষিক সম্প্রদায়ও 'মোক্ষকেই পরমপুরুষার্থ' বা জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে গণ্য করে।

৪. মোক্ষ লাভের জন্য বৈশেষিক দর্শনে কীসের তত্ত্বজ্ঞান আবশ্যক?

বৈশেষিক দর্শনে দ্রব্যাদি সপ্তপদার্থের সাধর্ম্য (সাদৃশ্য) ও বৈধর্ম্য (বৈসাদৃশ্য) হেতুক তত্ত্বজ্ঞানকেই মোক্ষের পথপ্রদর্শক হিসেবে ধরা হয়।

৫. বৈশেষিক দর্শন সম্প্রদায়ের মূল ও আদিগ্রন্থ কোনটি?

মহর্ষি কণাদ-এর 'বৈশেষিকসূত্র' হলো বৈশেষিক দর্শন সম্প্রদায়ের মূল ও আদিগ্রন্থ।

৬. 'বৈশেষিক দর্শন' নামটি কীসের উপর গুরুত্ব আরোপের কারণে এসেছে?

এই দর্শন মূলত 'বিশেষ' পদার্থের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করার কারণে 'বৈশেষিক দর্শন' নামে সুপরিচিতি লাভ করেছে।

৭. মহর্ষি কণাদের অন্য কয়েকটি নাম কী কী?

মহর্ষি কণাদ 'কণভূক', 'কণভক্ষ', 'যোগী', 'উলূক', 'কাশ্যপ' প্রভৃতি নামে পরিচিত ছিলেন।

৮. কেন মহর্ষি কণাদকে 'উলূক' বলা হতো?

প্রবাদ অনুসারে, মহর্ষি কণাদ রাত্রিকালে আহারের সন্ধানে বের হতেন, যা উলূক বা পেচকের বৃত্তির (আচরণের) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ছিল, তাই তাকে 'উলূক' বলা হতো।

৯. 'কণাদ' নামের উৎপত্তি প্রসঙ্গে ন্যায়-কন্দলীতে কী উল্লেখ আছে?

ন্যায়-কন্দলীতে উল্লেখ আছে যে, তিনি মাঠে পড়ে থাকা শস্যকণা ভক্ষণ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন বলে তাকে 'কণাদ' বলা হতো।

১০. পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ণের মতে বৈশেষিক সূত্রের রচনাকাল কত?

পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ণ তার 'দর্শন-দিগদর্শন' গ্রন্থে পরমাণুবাদী দার্শনিক কণাদের সময়কাল ১৫০ খ্রিস্টাব্দ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

১১. রাহুল সাংকৃত্যায়ন কেন বৈশেষিক দর্শনকে বুদ্ধ-পরবর্তী বলে মনে করেন?

রাহুল সাংকৃত্যায়ণের মতে, কণাদের দর্শন বুদ্ধের 'অনিত্য' এবং 'অনাত্মা' ধারণার বিরুদ্ধে 'নিত্য' ও 'আত্মা' ধারণার উপর জোর দিয়েছিল, যা প্রমাণ করে এটি বুদ্ধ-পরবর্তী এবং বৌদ্ধ দর্শনের সঙ্গে পরিচিত ছিল।

১২. গ্রিক দার্শনিক ডিমোক্রিটাসের সাথে কণাদের পরমাণুবাদের সাদৃশ্য কী?

ডিমোক্রিটাস পরমাণুকে অবিভাজ্য ও সূক্ষ্ম সত্তা মেনেছেন এবং কণাদও পরমাণুকে সূক্ষ্ম পরিমাণ-যুক্ত ও সৃষ্টির ইষ্টক স্বরূপ মনে করেছেন।

১৩. প্লেটো ও অ্যারিস্টটলের দর্শনের সাথে বৈশেষিক পদার্থের কী ধরনের সাদৃশ্য রাহুল সাংকৃত্যায়ন উল্লেখ করেছেন?

রাহুল সাংকৃত্যায়ন উল্লেখ করেছেন যে, প্লেটোর 'সামান্য-বিশেষ' ধারণা এবং অ্যারিস্টটলের পদার্থসমূহের (যেমন দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সমবায়) সাথে কণাদের পদার্থসমূহের সাদৃশ্য রয়েছে। তার মতে, কণাদ অ্যারিস্টটলের পদার্থকেই পুনরায় বর্গীকরণ করেছেন।

১৪. দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় রাহুল সাংকৃত্যায়ণের গ্রিক প্রভাবের অনুমান সম্পর্কে কী মন্তব্য করেছেন?

দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন যে, দুটি দেশে পরস্পরনিরপেক্ষভাবে পরমাণুবাদের আবির্ভাব অসম্ভব নয় এবং বৈশেষিকদের দার্শনিক মতবাদের নানা বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা এটিকে কেবল গ্রিক আমদানি মনে করলে অতিসরলীকরণের আশঙ্কা থাকে।

১৫. বৈশেষিক সূত্রের প্রকৃত কোনো ভাষ্যগ্রন্থ পাওয়া না গেলেও, ভাষ্যস্থানীয় গ্রন্থ কোনটি?

আচার্য প্রশস্তপাদ (২০০ খ্রিঃ)-এর 'পদার্থধর্মসংগ্রহ' বৈশেষিক-দর্শনের সঠিক ভাষ্য না হলেও, এটি ভাষ্যস্থানীয় এবং 'প্রশস্তপাদভাষ্য' নামে পরিচিত।

১৬. পদার্থধর্মসংগ্রহের উপর দুটি উল্লেখযোগ্য টীকাগ্রন্থের নাম বলুন।

পদার্থধর্মসংগ্রহের উপর উল্লেখযোগ্য টীকাগ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে উদয়নাচার্যের 'কিরণাবলী' এবং শ্রীধরাচার্যের 'ন্যায়কন্দলী'।

১৭. ন্যায় ও বৈশেষিক দর্শনকে কেন 'সমানতন্ত্র দর্শন' বলা হয়?

বৈশেষিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ন্যায় সম্প্রদায়ের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং দার্শনিক তত্ত্বের দিক থেকে উভয়েরই প্রতিপাদ্য বিষয় অভিন্ন বা প্রায়-অভিন্ন, এজন্যেই তাদের 'সমানতন্ত্র দর্শন' বলা হয়।

১৮. প্রমাণের ক্ষেত্রে ন্যায় ও বৈশেষিক দর্শনের প্রধান পার্থক্য কী?

ন্যায়শাস্ত্র প্রমাণ চতুষ্টয়বাদী (প্রত্যক্ষ, অনুমান, উপমান, শব্দ), কিন্তু বৈশেষিকেরা শুধুমাত্র প্রত্যক্ষ ও অনুমান এই দুটি প্রমাণ স্বীকার করেছেন।

১৯. হেত্বাভাসের প্রকারভেদের ক্ষেত্রে ন্যায় ও বৈশেষিক দর্শনের পার্থক্য কী?

ন্যায় দর্শনে পাঁচ প্রকার হেত্বাভাস উল্লিখিত হয়েছে (সব্যভিচার, বিরুদ্ধ, প্রকরণসম, সাধ্যসম, কালাতীত), কিন্তু বৈশেষিক দর্শনে তিন প্রকার হেত্বাভাসের (অসিদ্ধ, বিরুদ্ধ ও সন্দিগ্ধ) উল্লেখ পাওয়া যায়।

২০. পদার্থ সংখ্যার পার্থক্য সত্ত্বেও ন্যায় ও বৈশেষিক দর্শনের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য আছে কি?

না, পদার্থ বিষয়ে উভয় সম্প্রদায়ের সংখ্যার পার্থক্য দুটি ভিন্ন বিন্যাস-প্রক্রিয়ার পার্থক্য মাত্র। বস্তুত সামগ্রিকভাবে জগতের পদার্থ বিষয়ে উভয় মতের মধ্যে কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই।

বৈশেষিক পদার্থতত্ত্ব: বহু-নির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ)

এখানে বৈশেষিক পদার্থতত্ত্বের উপর কিছু বহু-নির্বাচনী প্রশ্ন দেওয়া হলো। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর চিহ্নিত করা হয়েছে।

১. বৈশেষিক দর্শন প্রধানত কোন বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করে?

  • ক. প্রমাণের আলোচনা খ. ভৌততত্ত্ব বা বিশ্বতত্ত্ব গ. আত্মার স্বরূপ ঘ. কর্মফল

সঠিক উত্তর: খ. ভৌততত্ত্ব বা বিশ্বতত্ত্ব

ব্যাখ্যা: বৈশেষিক দর্শনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো বিশ্ববৈচিত্র্য তথা পার্থিব জগতকে ব্যাখ্যা করা এবং এর ভৌততত্ত্ব বা বিশ্বতত্ত্বের আলোচনা করা।

২. বৈশেষিক সম্প্রদায় কয়টি পদার্থ স্বীকার করেছেন?

  • ক. ছয়টি খ. সাতটি গ. আটটি ঘ. ষোলটি

সঠিক উত্তর: খ. সাতটি

ব্যাখ্যা: বৈশেষিক সম্প্রদায় দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সামান্য, বিশেষ, সমবায় ও অভাব – এই সাতটি পদার্থ স্বীকার করেছেন।

৩. নিম্নোক্ত কোন পদার্থটি মহর্ষি কণাদ বা প্রশস্তপাদ সরাসরি তাদের প্রাথমিক আলোচনায় উল্লেখ করেননি, কিন্তু পরে এটি স্বতন্ত্র পদার্থ হিসেবে স্বীকৃত হয়?

  • ক. দ্রব্য খ. গুণ গ. অভাব ঘ. কর্ম

সঠিক উত্তর: গ. অভাব

ব্যাখ্যা: মহর্ষি কণাদ ও প্রশস্তপাদ সরাসরি অভাবের উল্লেখ না করলেও, পরে আচার্য উদয়নের মাধ্যমে এটি স্বতন্ত্র পদার্থ হিসেবে স্বীকৃত হয়।

৪. 'নিঃশ্রেয়স' বলতে বৈশেষিক দর্শনে কী বোঝায়?

  • ক. সম্পদ লাভ খ. সর্বোচ্চ জ্ঞান গ. পরামুক্তি বা মোক্ষ ঘ. শারীরিক সুস্থতা

সঠিক উত্তর: গ. পরামুক্তি বা মোক্ষ

ব্যাখ্যা: ভারতীয় দর্শনে এবং বিশেষত বৈশেষিক দর্শনে, নিঃশ্রেয়স বলতে সবথেকে শ্রেয় অর্থাৎ পরামুক্তি বা মোক্ষকেই বোঝানো হয়।

৫. আচার্য উদয়নের মতে, অভাব স্বতন্ত্র পদার্থ রূপে উল্লিখিত না হওয়ার কারণ কী?

  • ক. অভাবের অস্তিত্ব নেই খ. অভাবের নিরূপণ প্রতিযোগীর নিরূপণাধীন গ. অভাব পদার্থের গুরুত্ব নেই ঘ. এটি একটি কাল্পনিক পদার্থ

সঠিক উত্তর: খ. অভাবের নিরূপণ প্রতিযোগীর নিরূপণাধীন

ব্যাখ্যা: উদয়নের মতে, যেহেতু অভাবের নিরূপণ তার প্রতিযোগীর নিরূপণের উপর নির্ভরশীল, তাই এর স্বতন্ত্র উল্লেখের প্রয়োজন ছিল না।

৬. 'নিয়ত পদার্থবাদী' বলে কোন সম্প্রদায়কে অভিহিত করা হয়?

  • ক. নৈয়ায়িক খ. মীমাংসক গ. বেদান্তী ঘ. বৈশেষিক

সঠিক উত্তর: ঘ. বৈশেষিক

ব্যাখ্যা: বৈশেষিকরা তাদের সাতটি পদার্থের নির্দিষ্ট সংখ্যার কারণে 'নিয়ত পদার্থবাদী' নামে পরিচিত।

৭. বৈশেষিক মতে, জগতের যাবতীয় বস্তু যেহেতু জ্ঞেয়, সেহেতু যাবতীয় বস্তুই __________।

  • ক. বিষয় খ. অভিধেয় গ. অজ্ঞেয় ঘ. অনস্তিত্বশীল

সঠিক উত্তর: খ. অভিধেয়

ব্যাখ্যা: ন্যায়-বৈশেষিক মতে যা জ্ঞেয়, তাই অভিধেয় (পদের দ্বারা অভিহিত হতে পারে), অর্থাৎ পদার্থ।

৮. বৈশেষিক সপ্তপদার্থের মধ্যে 'ভাবপদার্থ' কোনগুলো?

  • ক. শুধুমাত্র অভাব খ. দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সামান্য, বিশেষ, সমবায় গ. দ্রব্য ও গুণ ঘ. শুধুমাত্র দ্রব্য

সঠিক উত্তর: খ. দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সামান্য, বিশেষ, সমবায়

ব্যাখ্যা: এই ছয়টি পদার্থকে 'ভাবপদার্থ' বলা হয় কারণ এগুলি অস্তিত্বশীল সত্তা প্রকাশ করে।

৯. কোন ভারতীয় দর্শন সম্প্রদায় পাঁচ প্রকার পদার্থ স্বীকার করে, যেমন ভাট্ট মীমাংসকরা?

  • ক. ন্যায় দর্শন খ. প্রাভাকর মীমাংসক গ. বেদান্ত ঘ. চার্বাক দর্শন

সঠিক উত্তর: গ. বেদান্ত

ব্যাখ্যা: বেদান্ত মতে ভাট্ট মীমাংসকদের অনুরূপ পাঁচটি পদার্থ (দ্রব্য, গুণ, কর্ম, সামান্য এবং অভাব) স্বীকার করা হয়।

১০. 'প্রতিযোগী' অর্থ কী?

  • ক. যে পদার্থটির অভাব নেই খ. অভাবপদার্থের মধ্যে যে পদার্থটির অভাব গ. অভাবের অস্তিত্ব ঘ. অভাবের কারণ

সঠিক উত্তর: খ. অভাবপদার্থের মধ্যে যে পদার্থটির অভাব

ব্যাখ্যা: আচার্য উদয়নের মতে, 'প্রতিযোগী' অর্থ হলো অভাবপদার্থের মধ্যে যে পদার্থটির অভাব, সেটিই অভাবপদার্থের প্রতিযোগী।

১১. বৈশেষিক দর্শনে 'পদার্থ' এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ কী?

  • ক. পদের প্রকৃতি খ. পদের অর্থ গ. পদের উচ্চারণ ঘ. পদের গঠন

সঠিক উত্তর: খ. পদের অর্থ

ব্যাখ্যা: ব্যুৎপত্তিগতভাবে, 'পদার্থ' হলো পদের অর্থ, অর্থাৎ পদের দ্বারা যে বস্তুকে বোঝানো হয়, তাই পদার্থ।

১২. বৈশেষিক মতে, পদার্থ যখন জ্ঞানে প্রতিভাত হয়, তখন তাকে কী বলে?

  • ক. জ্ঞেয় খ. বিষয় গ. অভিধেয় ঘ. প্রমাণ

সঠিক উত্তর: খ. বিষয়

ব্যাখ্যা: পদার্থ যখন জ্ঞানে ভাসমান হয়, তখন তাকে ন্যায়-বৈশেষিক দর্শনে 'বিষয়' বলে।

১৩. 'সাধর্ম্য' বলতে কী বোঝায়?

  • ক. বৈসাদৃশ্য খ. সাদৃশ্য গ. বৈশিষ্ট্য ঘ. গুণ

সঠিক উত্তর: খ. সাদৃশ্য

ব্যাখ্যা: 'সাধর্ম্য' বলতে সাদৃশ্যকে বোঝায়, যা পদার্থের তত্ত্বজ্ঞানের জন্য আবশ্যক।

১৪. 'বৈধর্ম্য' বলতে কী বোঝায়?

  • ক. সাদৃশ্য খ. বৈসাদৃশ্য গ. ধর্ম ঘ. কর্ম

সঠিক উত্তর: খ. বৈসাদৃশ্য

ব্যাখ্যা: 'বৈধর্ম্য' বলতে বৈসাদৃশ্যকে বোঝায়, যা পদার্থের তত্ত্বজ্ঞানের জন্য আবশ্যক।

১৫. কোন গ্রন্থে অন্নংভট্ট বৈশেষিকসম্মত সাতটি পদার্থের বিভাগ দেখিয়েছেন?

  • ক. ন্যায়লীলাবতী খ. কিরণাবলী গ. তর্কসংগ্রহ ঘ. বৈশেষিক সূত্র

সঠিক উত্তর: গ. তর্কসংগ্রহ

ব্যাখ্যা: তর্কসংগ্রহ গ্রন্থে অন্নংভট্ট 'দ্রব্যগুণকর্মসামান্যবিশেষসমবায়াভাবাঃ সপ্ত পদার্থাঃ' বলে সাতটি পদার্থের উল্লেখ করেছেন।

১৬. বৈশেষিক মতে, অভাবের কয়টি প্রকারভেদ রয়েছে?

  • ক. দুইটি খ. তিনটি গ. চারটি ঘ. পাঁচটি

সঠিক উত্তর: গ. চারটি

ব্যাখ্যা: বৈশেষিক দর্শনে সাধারণত চার প্রকার অভাবের কথা বলা হয়: প্রাগভাব, প্রধ্বংসাভাব, অন্যোন্যাভাব এবং অত্যন্তাভাব।

১৭. 'প্রাগভাব' বলতে কী বোঝায়?

  • ক. ধ্বংসের অভাব খ. উৎপত্তির পূর্বের অভাব গ. পারস্পরিক অভাব ঘ. চিরন্তন অভাব

সঠিক উত্তর: খ. উৎপত্তির পূর্বের অভাব

ব্যাখ্যা: প্রাগভাব হলো কোনো কিছুর উৎপত্তির পূর্বের অভাব, যেমন ঘট তৈরির আগে ঘটের অভাব।

১৮. 'প্রধ্বংসাভাব' বলতে কী বোঝায়?

  • ক. উৎপত্তির পূর্বের অভাব খ. ধ্বংসের পরের অভাব গ. পারস্পরিক অভাব ঘ. চিরন্তন অভাব

সঠিক উত্তর: খ. ধ্বংসের পরের অভাব

ব্যাখ্যা: প্রধ্বংসাভাব হলো কোনো কিছুর ধ্বংসের পরের অভাব, যেমন ঘট ভেঙে যাওয়ার পর ঘটের অভাব।

১৯. 'অন্যোন্যাভাব' বলতে কী বোঝায়?

  • ক. উৎপত্তির পূর্বের অভাব খ. ধ্বংসের পরের অভাব গ. পারস্পরিক অভাব ঘ. চিরন্তন অভাব

সঠিক উত্তর: গ. পারস্পরিক অভাব

ব্যাখ্যা: অন্যোন্যাভাব হলো একটি বস্তুর অন্য বস্তু থেকে ভিন্নতা, যেমন ঘট পট নয়।

২০. 'অত্যন্তাভাব' বলতে কী বোঝায়?

  • ক. উৎপত্তির পূর্বের অভাব খ. ধ্বংসের পরের অভাব গ. পারস্পরিক অভাব ঘ. চিরন্তন অভাব

সঠিক উত্তর: ঘ. চিরন্তন অভাব

ব্যাখ্যা: অত্যন্তাভাব হলো কোনো কিছুর চিরন্তন বা সর্বতোভাবে অভাব, যেমন আকাশে নীল পদ্মের অভাব।

২১. মহর্ষি কণাদের 'বৈশেষিকসূত্র' ছাড়াও বৈশেষিক দর্শনকে আর কী নামে অভিহিত করা হয়?

  • ক. মীমাংসা দর্শন খ. ন্যায় দর্শন গ. ঔলূক্যদর্শন ঘ. সাংখ্য দর্শন

সঠিক উত্তর: গ. ঔলূক্যদর্শন

ব্যাখ্যা: মহর্ষি কণাদকে 'উলূক' নামেও অভিহিত করা হতো, তাই তার দর্শনকে 'ঔলূক্যদর্শন'ও বলা হয়।

২২. মহাভারতের শান্তিপর্বে মহর্ষি কণাদের কোন নামের ছায়া রয়েছে?

  • ক. কণভূক খ. কণভক্ষ গ. উলূক ঘ. কাশ্যপ

সঠিক উত্তর: গ. উলূক

ব্যাখ্যা: মহাভারতের শান্তিপর্ব-১১-এ 'উলূকঃ পরমো বিপ্রো মার্কণ্ডেয় মহামুনিঃ' এই কাহিনীর ছায়া রয়েছে, যা কণাদের উলূক নামের সাথে সম্পর্কিত।

২৩. পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ণের মতে, বৈশেষিক দর্শন কোন দর্শনের 'অনিত্য' এবং 'অনাত্মা'-র বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছিল?

  • ক. মীমাংসা দর্শন খ. বৌদ্ধ দর্শন গ. জৈন দর্শন ঘ. চার্বাক দর্শন

সঠিক উত্তর: খ. বৌদ্ধ দর্শন

ব্যাখ্যা: রাহুল সাংকৃত্যায়ণের মতে, কণাদের দর্শন বুদ্ধের 'অনিত্য' এবং 'অনাত্মা'-র বিরুদ্ধেই যেন জেহাদ ঘোষণা করেছিল।

২৪. গ্রিক দার্শনিক ডিমোক্রিটাস কোন ধারণার জন্য পরিচিত?

  • ক. নিত্য-সামান্য খ. পরমাণুবাদ গ. আকৃতিই মূল উপাদান ঘ. কার্যকারণ তত্ত্ব

সঠিক উত্তর: খ. পরমাণুবাদ

ব্যাখ্যা: ডিমোক্রিটাস 'অতোমোন' বা অবিভাজ্য পরমাণুর সিদ্ধান্তের জন্য পরিচিত।

২৫. আচার্য প্রশস্তপাদের 'পদার্থধর্মসংগ্রহ' গ্রন্থটি কী নামেও পরিচিত?

  • ক. কিরণাবলী খ. ন্যায়কন্দলী গ. প্রশস্তপাদভাষ্য ঘ. বৈশেষিকসূত্রোপস্কার

সঠিক উত্তর: গ. প্রশস্তপাদভাষ্য

ব্যাখ্যা: আচার্য প্রশস্তপাদের 'পদার্থধর্মসংগ্রহ' গ্রন্থটি ' প্রশস্তপাদভাষ্য' নামে পরিচিত।

২৬. উদয়নাচার্যের 'কিরণাবলী' কোন গ্রন্থের উপর উল্লেখযোগ্য টীকাগ্রন্থ?

  • ক. বৈশেষিকসূত্র খ. পদার্থধর্মসংগ্রহ গ. ন্যায়লীলাবতী ঘ. তর্কসংগ্রহ

সঠিক উত্তর: খ. পদার্থধর্মসংগ্রহ

ব্যাখ্যা: উদয়নাচার্যের 'কিরণাবলী' পদার্থধর্মসংগ্রহের উপর একটি উল্লেখযোগ্য টীকাগ্রন্থ।

২৭. ন্যায় ও বৈশেষিক দর্শনকে 'সমানতন্ত্র দর্শন' বলার কারণ কী?

ক. তাদের প্রমাণের সংখ্যা এক খ. তাদের হেত্বাভাসের প্রকার এক গ. তাদের প্রতিপাদ্য বিষয় অভিন্ন বা প্রায়-অভিন্ন ঘ. তাদের সূত্রকার একই ব্যক্তি

সঠিক উত্তর: গ. তাদের প্রতিপাদ্য বিষয় অভিন্ন বা প্রায়-অভিন্ন

ব্যাখ্যা: ন্যায় ও বৈশেষিক দর্শনের প্রতিপাদ্য বিষয় অভিন্ন বা প্রায়-অভিন্ন হওয়ায় তাদের 'সমানতন্ত্র দর্শন' বলা হয়।

২৮. ন্যায় দর্শনে অনুমানের কয়টি প্রকারের উল্লেখ আছে?

  • ক. দুইটি খ. তিনটি গ. চারটি ঘ. পাঁচটি

সঠিক উত্তর: খ. তিনটি

ব্যাখ্যা: ন্যায়দর্শনে পূর্ববৎ, শেষবৎ ও সামান্যতোদৃষ্ট এই ত্রিবিধ অনুমানের উল্লেখ আছে।

২৯. বৈশেষিক দর্শনে হেত্বাভাসের কয়টি প্রকারের উল্লেখ পাওয়া যায়?

  • ক. দুইটি খ. তিনটি গ. চারটি ঘ. পাঁচটি

সঠিক উত্তর: খ. তিনটি

ব্যাখ্যা: বৈশেষিক দর্শনে অসিদ্ধ, বিরুদ্ধ ও সন্দিগ্ধ এই তিনপ্রকার হেত্বাভাসের উল্লেখ পাওয়া যায়।

৩০. সমবায়ের অস্তিত্ব সম্পর্কে ন্যায় ও বৈশেষিক দর্শনের পার্থক্য কী?

  • ক. ন্যায়মতে সমবায় অনুমানসিদ্ধ, বৈশেষিক মতে প্রত্যক্ষসিদ্ধ খ. ন্যায়মতে সমবায় প্রত্যক্ষসিদ্ধ, বৈশেষিক মতে অনুমানসিদ্ধ গ. উভয় মতে সমবায় প্রত্যক্ষসিদ্ধ ঘ. উভয় মতে সমবায় অনুমানসিদ্ধ

সঠিক উত্তর: খ. ন্যায়মতে সমবায় প্রত্যক্ষসিদ্ধ, বৈশেষিক মতে অনুমানসিদ্ধ

ব্যাখ্যা: ন্যায়মতে সমবায় প্রত্যক্ষসিদ্ধ, কিন্তু বৈশেষিক মতে সমবায় প্রত্যক্ষের দ্বারা জ্ঞাত হতে পারে না, অনুমানের দ্বারা সমবায়ের অস্তিত্ব সিদ্ধ হয়।

নবীনতর পূর্বতন

نموذج الاتصال